দাঁত কি জীবিত না মৃত ? দাঁতের রুট ক্যানেল কেন করা হয়

দাঁতের রুট ক্যালেন কেন করা হয়।তাআমরা অনেকেই জানি না।রুট ক্যালেন হল দাঁতের চিকিৎসা মধ্যে একটি ভালো চিকিৎসা।এই বিষয় বিস্তারিত আমরা চলুন জেনে নিই।

মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষজন হিসাব করে চলে। তাই তারা অনেক কিছু বুঝে শুনে করে। রুট ক্যানেল করতে কত খরচ হয় ও কতদিন লাগে তা আমরা এখন জানবো।

দাঁতের রুট ক্যানেল করতে কত টাকা লাগে

দাঁত আমাদের শরীরের একটি অংশ। আমরা যেমন শরীরের প্রত্যেকটি অংশ যত্ন নেই তেমনি দাঁতেরও যত্ন নেওয়া উচিত।আমরা ছোটকালে অনেক সময় দাঁত ব্রাশ করি না এবং বড় হয়ে অনেক সময় করি না তখন দাঁতের সমস্যা দেখা দেয়।এইজন্য দাঁতের রুট ক্যানেল করা প্রয়োজন হয়।দাঁতে কালো দাগ ও দাঁতের গর্ত দেখা দিলে তখন ফিলিং না করে রুট ক্যানেল করা হয়।

আবার অনেকের দাঁতে ঠান্ডা পানি বা আইসক্রিম খেলে শিরশির অনুভূতি হয় তখনও রুট ক্যানেল করা হয়।আমরা শিরশিরে অনুভূতিটি অনেক মানুষ খেয়াল করি না ভাবি এটি সাধারণ একটি সমস্যা কিন্তু এটি একসময় বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে।তাই অল্প থাকতে চিকিৎসা করা অতি প্রয়োজনীয়। রুট ক্যানেল করতে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে বিভিন্ন ধরনের খরচ হয়।

এই চিকিৎসার কোন নির্দিষ্ট খরচ নেই। আমরা যদি ভালো চিকিৎসা চাই তবে একটু বেশি খরচ হতে পারে।আমরা অনেকে ভাবি কম খরচে রুট ক্যানেল করা যেতে পারে কিন্তু এতে পরে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে ভালো চিকিৎসকের কাছে একটু বেশি খরচ হলেও ভালো রুট ক্যানেল করা উচিত। রুট ক্যানেল করতে সর্বনিম্ন দুই হাজার থেকে চার হাজার টাকা খরচ হয়।

 রুট ক্যানেল করার পরে  ওই জায়গায় ক্যাপ বসানো একটু ভালো কিন্তু এর খরচ একটু বেশি হয়। ক্যাপ বসালে কেউ কখনো বুঝতে পারবে না যে ওটি আসল দাঁত না নকল দাঁত। তাই আমাদের উচিত একটি ভালো চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রুট ক্যানেল করা।

রুট ক্যানেল করতে কতদিন লাগে 

আমাদের দাঁতে ভিতরে গর্ত হয়ে গেলে এবং খাবার খেতে সমস্যা হলে অথবা শিরসিরে অনুভূতিটি একটু বেশি পরিমাণে হলে তখন রুট ক্যানেল করা উচিত। আমরা অনেকে মনে করে রুট ক্যানেল করতে  অল্প সময়ের মধ্যে হয়ে যায় আবার সময়ও বেশি লাগে এটি মনে করি।চিকিৎসকের কাছে সঠিক পদ্ধতি জেনে নেওয়া আমাদের উচিত।

 ভাল চিকিৎসকের কাছে সমাধান করতে তাহলে রুট ক্যানেলের দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে।রুট ক্যানেলের একটি জটিল সমস্যা।

রুট ক্যানেল এর উপকারিতা

কতদিন সময় লাগে রুট ক্যানেল করতে এটি জেনে নেওয়া হয়েছে। এখন রুট ক্যানেলের উপকারিতা সম্পর্কে আমরা নিচে জেনে নেই। রুট ট্যানেল করা হয় সাধারণত দাঁতের সমস্যা হলে।দাঁতের যত্ন না নিলে জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া দাঁতের ভিতরে গিয়ে তাদের সম্পূর্ণ অংশ খেয়ে ফেলা এবং ভেতর থেকে গর্ত করে দেয়।

এই সমস্যাটি হলে দাঁতে শিরশির অনুভূতি হয় এবং কোন খাবার সেই অংশে গিয়ে আটকে যায় তাতে ব্যথা অনুভব হয়। এজন্য রুট ক্যানেল করা হয়। সম্পূর্ণ দাঁত যাতে নষ্ট না হয় তাই রুট ক্যানেল করা হয়। রুট ক্যানেল করা হয়ে গেলে তাদের শিরশিরে অনুভূতিটি হয় না এবং যে কোন খাবার খেলে ব্যথা অনুভব হয় না। রুট ক্যানেল করলে দাঁতে জীবাণু কারণে অতিরিক্ত পরিমাণে গন্ধ হতো সেই গন্ধটি অনেকটা কমে যায়।

রুট ক্যানেল এর ক্ষতিকর দিক

রুট ক্যানেল যদি ভালোভাবে করা না হয় তাহলে দাঁতের জন্য ক্ষতিকর দিকও হতে পারে।এই কাজটি যদি সঠিকভাবে করা না হয় তবে দাঁতের অনেক ক্ষতিকর হয়ে যায়। এ বিষয়ে আজকে চলুন জানা যাক। রুট ক্যানেল করার সময় যদি সঠিকভাবে না হয় কাজটি কিছুদিন পরে আবার সেই দাঁতের ব্যথা অনুভব হয়।

জীবানুর কারণে এই দাঁতের সমস্যা হয় তাই আবার জীবাণু সংক্রমণ হয়ে যায়।

 রুট ক্যানেল কতদিন স্থায়ী থাকে

রুট ক্যানেল কতদিন স্থায়ী থাকে তা আমরা এখন জেনে নিব। রুট ক্যানেল করা হয় দাঁতের সমস্যার সমাধান করার জন্য।রুট ক্যানেল করতে টাকার পরিমাণ একটু বেশি খরচ হয়,তাই আমরা এই রুট ক্যানেলটি করতে চাইলে দীর্ঘস্থায়ী হোক এটি চাই।

ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে করলে রুট ক্যানেল টি দীর্ঘস্থায়ী হয়। আর যদি কম খরচের জন্য রুট ক্যানেলটি করে থাকে অথবা চিকিৎসক যদি ভালো না হয় তবে রুট ক্যানেল টি কিছুদিনের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য আমাদের উচিত সঠিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রুট ক্যানেলটি করা। 

তাই আমাদের উচিত কম খরচে রুট ক্যানেল না করা। তাই রুট ক্যানেল করার আগে আমাদের ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এবংতার কাছেই রুট ক্যানেল করা উচিত।তবে দীর্ঘস্থায়ী হবে।

 রুট ক্যানেল করার নিয়ম

রুট ক্যানেল করা সাধারণত আমরা ভাবি যে দাঁতে গর্ত হয়েছে সেটি পূরণ করা পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকাকেই রুট ক্যানেল বলে। চিকিৎসকেরা রুট ক্যানেল করার কিছু নিয়ম বা পদ্ধতি রয়েছে তা অবলম্বন করে থাকে। আমরা যখন খাবার খাই তখন দাঁতে গর্ত থাকলে সে খাবারগুলো ঢুকে থাকে। এজন্য রুট ক্যানেল করার প্রয়োজন হয়।
 
আবার অনেক সময় প্রচন্ড পরিমাণে ব্যথা অনুভব  হয়। তখন রুট ক্যানেল করা হয়।রুট ক্যানেল করার সময় দাঁতে যে অংশে গর্ত হয়েছে সে অংশটুকু অবশ করে নেয়।যাতে ব্যথা অনুভব না হয়। অবশ করে নেওয়ার পরে গর্ত অংশটি সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করা হয়। পরিষ্কার করা হয় এমন ভাবে যাতে ঐ অংশ কোন ধরনের জীবাণু না থাকে।

যদি ভালোভাবে পরিষ্কার করা না হয় তবে রুট ক্যানেল করা ভালো হবে না।আবার ওই দাঁতের সংক্রমনের কারণে অন্য তাতেও একই সমস্যা হতে পারে। তাই ভালোভাবে পরিষ্কার করে রুট ক্যানেল করা হয় এবংক্যাপ পরানো হয়।

রুট ক্যানেল করার সময় ব্যাথা

রুট ক্যানেল করার সময় অনেকে মনে করেন ব্যথা অনুভব হয়। তাই আজকে আমরা জানব রুট ক্যানেল করার সময় ব্যথা হয় কিনা? এর আগে আমরা রুট ক্যানেল করতে কত খরচ হয় কিভাবে করতে হয় তা বিস্তারিত উপরে আলোচনা করেছি তাই আর্টিকেলটি গুরুত্ব দিবেন। রুট ক্যানেল করার সময় মানুষ সাধারণত ভাবে যে ব্যথা অনুভব হয়।
 
কিন্তু রুট ক্যানেল করার সময় ব্যথা হয় না তবে অনেক ক্ষেত্রে হয়।এটি তাদের ব্যথা হতে পারে যাদের দাঁতে জীবাণুর সংক্রমণ বেশি হয়ে গেছে বা গর্ত তীব্র হয়েছে তখন ব্যথা অনুভব হতে পারে। যারা দক্ষ চিকিৎসক তারা রোড ক্যানেল করার সময় যে দাঁতে গর্ত হয়েছে সে অংশটুকু অবশ করে নেয় তাই ব্যথা অনুভব সাধারণত হয় না।

রুট ক্যানেল করার আগে করনীয়

রুট ক্যানেল করার আগে চিকিৎসক কিছু জিনিস করতে বলে দেয়, যাতে করে চিকিৎসকের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হয়ে যায়।এই কাজটি করার আগে রোগী তেমন কোন কাজ করতে হয় না তবে ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে আসতে হয়। মুখে কোন ধরনের গন্ধ যাতে না থাকে সেটি খেয়াল করতে হবে। রুট ক্যানেল করার আগে যে যন্ত্রপাতি দিয়ে করা হবে সেগুলো পরিষ্কার করা চিকিৎসকের কর্তব্য।

 কারণ আমার আগেও অনেক মানুষের রুট ক্যানেল করা হয়ে থাকে।তাই সেটি আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। এ কাজটি করার আগে চিকিৎসকে দেখে নিবে যে কোন দাঁতটি আমাদের সমস্যা এবং আমাদের উচিত দাঁতটি দেখিয়ে দেওয়া।দাঁতে যে ধরনের সমস্যা হয় সে সমস্যাগুলো ডাক্তারের কাছে বলা উচিত এবং খাবার খেলে ঠান্ডা লাগার যে সমস্যা সেটিও বলা উচিত।

রুট ক্যানেল করার পরে করণীয়

আমরা মনে করি রূট ক্যানেল করা হয়ে গেলে আমরা সব ধরনের খাবার খেতে পারব আমাদের যা কিছু করতে ইচ্ছা করবে তাই করতে পারব।কিন্তু না চিকিৎসক কিছু নির্দেশনা দিবে সেটি মেনে আমাদের চলতে হবে না হলে সমস্যা আরো বেড়ে যাবে। চিকিৎসক আমাদের কিছু খাবারের তালিকা দিবে সেটি অনুযায়ী আমাদের খেতে হবে। 

আর চিকিৎসক যদি না দেয় তবে আমাদের তার কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।রুট ক্যানেল করার পরে শক্ত খাবার খাওয়া যাবেনা এবংযে দাঁতে রুট ক্যানেল করা হয়েছে সেই দাঁত দিয়ে চিবানো যাবে না। রুট ক্যানেল করার পরে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খাওয়া যাবে না এবং খাবারও পরিমাণ মতো খেতে হবে। যদি সঠিক নিয়ম মানা না হয় তবে ওই দাঁতে আবার আগের মতো সমস্যা দেখা দিবে।

 তাই ডাক্তার যে নিয়মে চলতে বলবে সেটি মেনে আমাদের চলতে হবে।

লেখক এর শেষ মন্তব্য

দাঁতের রুট ক্যানেল করতে উপরে যে বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে তা আপনাদের অবশ্যই মনোযোগ সহকারে পড়া উচিত। এতে আপনার জানতে পারবেন যে দাঁতের রুট ক্যানেল আসলে কি এবং এর উপকারিতা কতখানি। এই বিষয়গুলো জানার পরে আপনারা অবশ্যই উপকৃত হবেন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url