শীতের বিকেলে তরতাজা ফুলকপির মুচমুচে পাকোড়া - চুইঝাল

বিকেলে তরতাজা ফুলকপির মুচমুচে পাকোড়া- চুইঝাল খেতে আমরা সবাই পছন্দ করি।শীতের বিকেলে আমরা অনেকেই একসাথে বসে আড্ডা দেই তখন এই ফুলকপির পাকোড়া খেতে আমরা অনেকে পছন্দ করি। তাই বিকেলে পাকড়া অনেক বাড়িতেই করা হয় এবং এই পাকোড়া খেতে অনেক ভালো লাগে।

আমরা অনেকেই রান্না জানিনা এবং এই ফুলকপি পাকোড়া কিভাবে বানায় সেটিও জানিনা। এইজন্য আজকে আমরা এই আর্টিকেলে ফুলকপির মুচমুচে পাকোড়া রেসিপি সম্পর্কে জানবো।

ফুলকপির পাকোড়া তৈরীর সহজ রেসিপি

আমরা অনেকেই শাকসবজি খেতে পছন্দ করি না। কিন্তু কোন সবজি সুন্দর ভাজাপোড়া তৈরি করা হলে সেই খাবারটি আমরা খেয়ে থাকি। তাছাড়া ফুলকপি একটি সিজনালে সবজি। এই ফুলকপি দিয়ে আমরা বিভিন্ন রান্নায় তরকারিতে ব্যবহার করে থাকি। এই ফুলকপিটি আমরা ভাজি,মাছের তরকারিতে দিয়ে খাবার তৈরি করি। মাছের তরকারিতে ফুলকপি দিলে সেই রান্নাটি অনেক মজার হয়। ফুলকপি একটি রেসিপি হয় সেই রেসিপিটি আজকে আমরা জানবো। সেটি হল ফুলকপি পাকোড়া। আমরা ছুটির দিনে বিকালে বাসায় বসে সবাই মিলে আড্ডা দেই। বিকেলে তরতাজা ফুলকপি মুচমুচে পাকোড়া ভেজে নিয়ে আসলে তখন আমরা সবাই খুশি হই।

ফুলকপির পাকোড়া তৈরীর উপকরণ

বিকেলে তরতাজা ফুলকপির মুচমুচে পাকোড়া খেতে ভালোই লাগে এবং আমরা সবাই এই খাবারটি পছন্দ করি। এ খাবারটি তৈরি করতে কোন ঝামেলা হয় না। নিচে আমরা এই ফুলকপির পাক করা কি কি উপকরণ লাগে সেটি জেনে নেইঃ
  • সুন্দর আকৃতির একটি ফুলকপি ছোট ছোট করে কেটে নিন।
  • ফুলকপিটি যদি বেশি পরিমাণে হয় তবে ডিম দুইটা থেকে তিনটা, অল্প হলে একটি।
  • এক চামচ কনফ্লাওয়ার।
  • বেশন অথবা ময়দা ব্যবহার করা যাবে,এটি আপনার ইচ্ছা। এক বা দুই কাপ।
  • পরিমাণ মতো মরিচের গুড়া। কারণ আমরা অনেকে ঝাল কম খায় আবার বেশিও খায়। এটি আপনাদের উপর নির্ভর করবে।
  • এক চামচ ধনিয়া গুড়া।
  • এক চামচ আদা রসুন বাটা।
  • দুইটি কাঁচা মরিচ কুচি।
  • ১/২ চামচ জিরা গুড়া।
  • এক চিমটি টেস্টিং সল্ট।
  • স্বাদমতো লবণ।
  • প্রয়োজন পরিমাপ পানি।
  • সয়াবিন তেল নিতে হবে যতটুকু ভাজার জন্য প্রয়োজন।

প্রস্তুত প্রণালী

সর্বপ্রথম যে ফুলকপি গুলো ছোট ছোট করে কেটেছিলাম সেগুলো পানিতে সিদ্ধ করে নিতে হবে একটি পাত্রে। কিন্তু এমন ভাবে করতে হবে যেন বেশি গলে না যায় এবং শক্ত না হয়ে থাকে। ৫ থেকে ১০ মিনিট পরে চুলা থেকে ফুলকপির পাত্রটি নিচে নামিয়ে নিতে হবে। পানি থেকে ফুলকপি গুলো তুলে নিয়ে ঠান্ডা হতে দিতে হবে।
এখন একটি পাত্রে ফুলকপি গুলো নিয়ে পরিমাণ অনুযায়ী বেসন অথবা ময়দা, কর্নফ্লাওয়ার,ডিম, আদা রসুন বাটা, মরিচের গুঁড়া,কাঁচামরিচ কুচি,টেস্টি সল্ট,ধনিয়া গুড়া, জিরা গুড়া, স্বাদমতো লবণ দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।
১৩ থেকে ১৭ মিনিটের জন্য মিশ্রণটি মাখিয়ে রেখে দিতে হবে। এতে যে জিনিসগুলো দিয়ে ফুলকপিটি মাখিয়েছে সেগুলো সবজিটি ভিতরে যেতে পারে।
একটি পরিষ্কার পাত্রে পরিমাণ মতো সয়াবিন তেল নিয়ে গরম হতে দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে চুলার আঁচটি যেন মিডিয়াম থাকে।
পাত্রের তেলটি একটু গরম হতে দেখলে মাখানো ফুলকপি গুলো দিয়ে ভেজে নিতে হবে।তবে ফুলকপি গুলো দেওয়ার পরে খেয়াল রাখতে হবে ফুলকপি গুলো চামচ দিয়ে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দিতে হবে যাতে ফুলকপির সব অংশগুলো ভালোভাবে তেলের সাহায্যে মচমচে হয়।
এরপরে পাকোড়া গুলো বাদামি রংয়ের হয়ে গেলে একটি একটি করে ফুলকপির পাকোড়া গুলো তুলে নিয়ে একটি পরিষ্কার পাত্রে রাখতে হবে।
ছুটির দিনে আমরা সবাই বিকেলে বাসায় বসে আড্ডা দেই। বিকেলে তরতাজা ফুলকপির মুচমুচে পাকোড়া খেতে অনেক মজা লাগে।তাছাড়া আমরা অনেকেই বাহিরের খাবার খাওয়া পছন্দ করি না তখন এই ফুলকপির পাকোড়া খুব সহজে বানিয়ে নিয়ে যেতে পারি। এই উপকরণটি বানাতে বেশি সময় লাগে না এবং কয়েকটি উপাদান দিয়ে এই খাবারটি বানানো যায়।

চুইঝাল কি

আমরা এই আর্টিকেলে জানলাম বিকেলে তরতাজা ফুলকপির মুচমুচে পাকোড়া কিভাবে খুব সহজে তৈরি করা যায়। এখন আমরা আরো জানবো চুইঝাল কি এবং এটি কি কাজে লাগে।পানের লতার মত দেখতে এই গাছটি। এই গাছের পাতা পুরু ও লম্বা হয়। এই পাতাটি একটুকু ঝাল হয় না।তবে কান্ড ও লতা ডগার মতো কেটে টুকরো করে তরকারি হিসেবে রান্না করা যায়।এটি তরকারি হিসেবে রান্না করলে চিবিয়ে খেতে ভালো লাগে।

চুইঝালের ব্যবহার

যশোর,সাতক্ষীরা,খুলন, বাগেরহাট এসব এলাকায় চুইঝাল একটি বিখ্যাত মসলা। এই গাছের কান্ড মাংসের এবং অন্যান্য তরকারির মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ঔষধি গুণ হিসেবে চুইঝালের ফুল,ফল, শিকড় ও পাতা ব্যবহৃত হয়। এই মসলাটি খুবই জনপ্রিয় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের জেলায়।

চুইঝাল কেন খাবেন

বর্তমানে অধিকাংশ মানুষের গ্যাস্টিক ওকোষ্ঠকাঠিন্য রোগ দেখা দেয়। এই রোগটি ঔষধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই চুই ঝাল দিয়ে আবার খাবার রুচি ও ক্ষুধামন্দা দূর হয়। এই পাতাটি দারুন উপকারিতা রয়েছে পরিপাক তন্ততের প্রদহ। এটি মানসিক অস্থিরতা ও স্নায়বিক উত্তেজনা কমিয়ে দেয় অনেকটা। আমরা অনেকেই রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারি না এটি রাতের ঘুমের ওষুধ হিসেবে খেলে সুবিধা হয়।
আমার নিয়মিত এই মসলা খেলে শাইলিক ব্যথা ও শরীরে দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে। আদা ও পাতাটি বেটে খেলে সর্দি সমস্যা দূর হয়। ডায়াবেটিস,শ্বাসকষ্ট,হাঁপানি,কফ ও কাশি এই ধরনের সমস্যা দূর করতে এই মসলার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। যেসব মায়ের সদ্য প্রসূতি ব্যথার সমস্যা হয় এবং এই ব্যথা দূর করার জন্য এই চুইঝাড়ের ভূমিকা অপরিহার্য।
এজন্য চুই ঝাল কে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের জেলায় ঔষধি ও মসলা হিসেবে চেনা যায়।

সংরক্ষণ

চুইঝলটি একটি সংবেদনশীল উপাদান। এটি কেটে ফেলতে হয় পাওয়ার সাথে সাথে এবং সবচেয়ে ভালো থাকে ডিপ ফ্রিজে কেটে রেখে দিলে। এক মাসের মত ডিপে থাকে। বিভিন্ন ধরনের ভেষজ গুণের জন্য এই উপাদানটি প্রত্যেক বছর রপ্তানি করা হচ্ছে বিদেশে। কারণ এটি বিদেশে অনেক পরিমাণ রোগব্যাধি থেকে রক্ষা হচ্ছে।

লেখকের শেষ মন্তব্য

বিকেলে তরতাজা ফুলকপির মুচমুচে পাকোড়া সম্পর্কে এই আর্টিকেলে আজকে আমরা জানলাম। আমরা অনেকে এই ফুলকপি রেসিপিটি অনেক পছন্দ করি। কিন্তু মনে করি রেসিপিটি রান্না করতে অনেক বেশি সময় লাগবে। কিন্তু আমরা আজকে জানলাম এটি অল্প উপাদানে এবং অল্প সময়ের মধ্যে রান্না করা যায়।তাই আপনারা এই ফুলকপির রেসিপিটি সম্পর্কে জেনে খুশি হবেন যে এটি অতি অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি করা যায়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url